https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৫ জনের মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ১০ জনের

মেহেদী হাসান মিলন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১০:৩১ অপরাহ্ণ । ৫৯ জন
Link Copied!

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনের ১০জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ হয়েছে ৪৫জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র।

এর মধ্যে বেশিরভাগই ভোটার স্বাক্ষরের তালিকায় গড়মিলের কারণে বাদ পড়েছেন। এ ছাড়া মনোনয়ন ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করা, নিজেই প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী হওয়ায় বাদ মনোনয়ন বাতিল হয়।

রোববার (৩ ডিসেম্বর)সকাল ১০টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলমের কার্যালয়ে যাচাই বাছাই চলে।বাছাইয়ে শতকরা এক ভাগ ভোটারের তালিকা যাচাইয়ে সঠিক না পাওয়া, আয়করের সমস্যার কারণে ও মনোনয়নপত্র পূরনে ক্রটির কারনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) আসনে ৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনে ৩জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-(কসবা-আখাউড়া) আসনে ১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে ২জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) আসনে ৯জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ১১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনে ১২ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-(কসবা-আখাউড়া) আসনে ৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর) আসনে ১১জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-(বাঞ্ছারামপুর) আসনে ৬জন প্রার্থী রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১-(নাসিরনগর) এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৯জন প্রার্থী। এই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩জনের। এরা হলেন স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রোমা আক্তার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান।

এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বি.এম. ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ থেকে বহিষ্কৃত আলহাজ্ব সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ শাহানুল করিম, জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোঃ ইসলাম উদ্দিন ও ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ বকুল হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-(সরাইল-আশুগঞ্জ): এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১১ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র যাছাই-বাচাইকালে তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত ও এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহান আলম সাজু, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন উদ্দিন মঈন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, জাতীয় পার্টির মোঃ আবদুল হামিদ, জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসনাত, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোঃ রাজ্জাক হোসেন, তৃনমূল বিএনপি মনোনীত মাইনুল হোসেন তুষার, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কাজী মাসুদ আহমেদ, জাতীয় পার্টির সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হক মৃধা ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-(সদর-বিজয়নগর) আসনঃ এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১২ জন প্রার্থী। এই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ০৩জন প্রার্থীর। এরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ও সদর উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও, স্বতন্ত্র প্রার্থী জহিরুল হক চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কাজী জাহাঙ্গীর।এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী, এই আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল ইসলাম ‍ভূইয়া, জাকের পার্টি মনোনীত মোঃ সেলিম কবির, ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত সৈয়দ মোঃ নূরে আজম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত মোঃ আবদুর রহমান খান (ওমর), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মনোনীত মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সৈয়দ মাকসুদুল হক আক্কাছ, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির সোহেল মোল্লা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) মনোনীত জামাল রানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪-(কসবা-আখাউড়া) আসনঃ এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ০৬ জন প্রার্থী। এই আসনে বাতিল হয়েছে ০১ জন প্রার্থী। তিনি হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত বজলুর রহমান মিলন।এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী, এই আসনের টানা দুইবারের সংসদ সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, জাতীয় পার্টি মনোনীত তারেক আহমেদ আদেল, জাকের পার্টির মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত সৈয়দ জাফরুল কুদ্দুস।ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫-(নবীনগর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১১জন প্রার্থী।

এই আসনে মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে ০২জন প্রার্থীর। এরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ভুইয়া।এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল, জাতীয় পার্টি মনোনীত মোঃ মোবারক হোসেন, জাকের পার্টি মনোনীত মোঃ জমশেদ মিয়া, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি মনোনীত জামাল সরকার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত আখতার হোসেন সাঈদ, স্বতন্ত্র একেএম মামিনুল হক সাঈদ, ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত মোঃ মেহেদী হাসান, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মনোনীত ছৈয়দ জাফরুল কুদ্দুছ ও তৃনমূল বিএনপি মনোনীত মুফতি হাবিবুর রহমান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনঃ এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলে ৬জন প্রার্থী। এই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ০১জন প্রার্থীর। তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সফিকুল ইসলাম।

এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ.বি তাজুল ইসলাম, জাকের পার্টি মনোনীত মোঃ আবদুল আজিজ, জাতীয় পার্টি মনোনীত মোঃ আমজাদ হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি মনোনীত কবির মিয়া ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মনোনীত সফিকুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্রে নিজেই প্রস্তাবকারী ও সমর্থণকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। যে কারণে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনের বাকি পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘আগে থেকেই বলা হচ্ছিল আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। বাছাইয়ের সময় আমাকে জানানো হয়, স্বাক্ষর দেওয়া ১০ জন ভোটারের মধ্যে একজন অস্বীকার করেছে।

কাজী জাহাঙ্গীর নামে আরেক প্রার্থী বলেন, ‘ভোটার তালিকায় গড়মিলের কারণে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আপিল করব।’ এর আগেও একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় স্বাক্ষরে গরমিলের কথা বলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, যাছাই-বাচাইকালে শতকরা এক ভাগ ভোটারের তালিকা যাচাইয়ে সঠিক না পাওয়ায় ৯জনের এবং মনোনয়নপত্র পূরনে ত্রুটির কারনে ১জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।তিনি বলেন,বাতিল হওয়া প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্দ হলে ৫ থেকে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।