https://bangla-times.com/
ঢাকাশনিবার , ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্যালাইন সংকট

বাংলা টাইমস্
নভেম্বর ২৫, ২০২৩ ১:৪০ অপরাহ্ণ । ২৬ জন
Link Copied!

শীতের শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। তবে আক্রান্ত বেশী হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৩০/৪০ জন রোগী। হাসপাতালে বেড ও কলেরার স্যালাইন পর্যাপ্ত না থাকায় রোগীদেরকে ফ্লোরে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা জানান হাসপাতালে বেড সংকট ও কলেরা স্যালাইনের সাপ্লাই না থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

সরজমিনে গত শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়াডে ৯৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বেড সংকট থাকায় হাসপাতালের ফ্লোরে সারি সারি চট-চাদর ও চাটাই বিছিয়ে শুয়ে আছে রোগী ও তার স্বজনরা। সেখানেই তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আবদুল্লাহ নামে এক শিশুর মা বলেন, গত দুদিন থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা। শুক্রবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু শীতের দিনে বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছি। হাসপাতাল থেকে কলেরা স্যালাইন ও দেয়া হচ্ছেনা।

মানিক মিয়া নামে আরেক শিশুর পিতা বলেন, শুক্রবার সকালে ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কিন্তু বেড না থাকায় মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে শুয়ে আছে আমার ছেলে ও স্ত্রী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পৈরতলার জহির বলেন, তার ছেলে ভর্তি আছে হাসপাতালে। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু বেড না পাওয়ায় বারান্দাতে কম্বল বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য ২০টি বেড মজুদ আছে। কিন্তু এবছর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যে বেড রয়েছে, তা মোট ২০/২৫ জনকে দেওয়া সম্ভব। তাই রোগীদের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বেড সংকট থাকায় রোগীদের ফ্লোরেই থাকতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ ফাইজুর রহমান ফয়েজ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা যাদের বয়স মাত্র ৬ মাস থেকে এক বছর। তিনি কলেরার স্যালাইন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন আগামী দু’একদিনরে মধ্যে কলেরা স্যালাইন রোগীদের দিতে পারবো।

তিনি বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ৯৬ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। শুধু শুক্রবারই ৪১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার তিনভাগের দুইভাগই হচ্ছে শিশু।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ একরাম উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে বলেন,শীতে প্রতিবছর শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ে। এবারো বেড়েছে। তবে এবার শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইনসহ অন্যান্য অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ আছে। সবাই চিকিৎসা পাচ্ছে।