https://bangla-times.com/
ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ নভেম্বর ২০২৩

বিলে মাছ ধরার উৎসব

মাসুদ রানা, পাবনা
নভেম্বর ২৮, ২০২৩ ২:৪৩ অপরাহ্ণ । ৪৪ জন
Link Copied!

পাবনা, আটঘরিয়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নঁওগা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শৌখিন মাছ শিকারিরা বাস-মিনিবাস, ট্রাক-মিনিট্রাক, করিমন-নসিমন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে এসেছেন। তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। কারও হাতে পলো, কারও হাতে জাল। আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিলের ধারে জড়ো হয় হাজারো মানুষ।

ভোরের আলো ফুটতেই শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে বিলের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মাছ ধরার এই উৎসব যেন মিলনমেলায় রূপ নেয়। কেউ ঠান্ডায় জবুথবু অবস্থা। আবার কেউ মাছ ধরতে পেরে আনন্দ উল্লাস করছেন। যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ না পাওয়ায় বাউৎ উৎসবের এ হাসি শেষ পর্যন্ত অনেকের মুখেই দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) গভীর রাত থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ওই বিলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী-ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার কয়েক হাজার মানুষ। বিলে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরতে নেমেছে আশপাশের ২০ থেকে ২৫ গ্রাম থেকে আসা বাসিন্দারা।

সকালের শুরুতে মাছ শিকারিদের উৎসাহ দেখে মনে হওয়ার উপায় ছিল না উৎসবে কোনো পরিবর্তন এসেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাটা পড়ে উৎসবে। কীটনাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করে আগের দিন মাছ নিধন করা হয়েছে। ফলে অনেক মাছ মরে ভেসে উঠে। এতে অনেকেই মাছ না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

রাজশাহী থেকে আসা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকটি বাস নিয়ে রাত ২টার দিকে এখানে এসে অবস্থান করি মাছ শিকার করার জন্য। প্রতিবছরই এখানে আমরা আসি। কিন্তু এ বছর কেউ তেমন মাছ পায়নি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমূল হুদা বলেন, ভাঙ্গুড়ার রুহুল বিলে প্রতিবছরই মাছ ধরার উৎসব হয়ে থাকে। প্রতিবার আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করে থাকি। এ বছর আমরা বিষয়টি জানিই না। এটা একদিকে যেমন আনন্দ উৎসব অন্যদিকে বিলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।