https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ১৭ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য

বিজয় এক্সপ্রেস’র ৯ বগি লাইনচ্যুত, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

কুমিল্লা প্রতিনিধি
মার্চ ১৭, ২০২৪ ৮:৫১ অপরাহ্ণ । ৭৬ জন
Link Copied!

কুমিল্লায় আন্ত:নগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্ততপক্ষে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার (১৭ মার্চ) রাত ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের সাথে ঢাকা-সিলেট-ময়মনসিংহের রেল যোগাযোগ ৬ ঘন্টা বন্ধ রয়েছে।

এর আগে রোববার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের হাসানপুর স্টেশনের আউটারে তেজের বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অতি গরমে রেল লাইনের স্লিপার বাঁকা হয়ে কিংবা ইঞ্জিনের বাফারস্ট্যান্ড (বগি আটকানো) ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বললেও স্থানীয়রা বলছেন দুর্বল পাটাতন ও মানহীন স্লিপারের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্যরা হলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মো. আবদুল হানিফ, সংকেত ও টেলিযোগাযোগের কর্মকর্তা জাহেদ আরেফিন পাটোয়ারি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) সাজিদ হাসান ও বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন) সজিব হাসনাত। এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলের উভয় দিকে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী ও পণ্যবাহী রেল আটকা পড়ে। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনের যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছেন, শনিবার রাত ১১টা নাগাদ উদ্ধার কাজ শেষ হলে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনের কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাসানপুর-গুণবতী রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থান চিওড়া তেজের বাজার নামক স্থানে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর-ময়মনসিংহগামী (৭৮৫ নং) আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এসময় ট্রেনের ৯টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ইঞ্জিনের হুক খুলে গেলে চালক এবং ইঞ্জিনটি রক্ষা পায়। এসময় রেল লাইনের প্রায় আধা কিলোমিটার পথ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। লাইনচ্যুত বগিগুলো পার্শ্ববর্তী মাঠে ও আশপাশের বাড়িতে গিয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় ট্রেনের অন্তত ৩০ যাত্রী আহত হন, তবে কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় আহত ট্রেনের যাত্রী লাকসাম নরপাটি এলাকার রিয়াজ (২৫), মিরাজ (৪৫), নাঙ্গলকোট পৌরসভার হাজী বাড়ীর তাবারক (২৪), ঢালুয়া ইউপির শিহর চিড়রা গ্রামের স্বপন (৩৭), তার স্ত্রী রিনা বেগম (২৮), তাদের মেয়ে স্বপ্না (৮), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির শামছুন্নাহার (৩৩)সহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পর ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও লাকসামসহ কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, গুণবতী রেল স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে হাসানপুর স্টেশনে যাওয়ার সময় নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের চিওড়া তেজের বাজার নামক স্থান সংলগ্ন ২০০ নং ব্রীজটি অতিক্রম করার প্রাক্কালে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনের এটেডেন্টস আবদুস সাত্তার ও আবুল বাশার বলেন, ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ছেড়ে আসে। হাসানপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন শিহর চিওড়া ও উরকুটি নামক স্থানে আসার পর ট্রেনটি দুলতে-দুলতে পার্শ¦বর্তী মাঠে পড়ে যায়। ট্রেনের যাত্রী শামছুন্নাহার জানান, আমার বোন এবং দুই বাচ্চাসহ ট্রেনের ঢ বগিতে ছিলাম। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভিতরে ঝনঝন শব্দ হয় এবং ধুলা উড়তে থাকে। পরে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর আমরা বাচ্চাদের নিয়ে বগি থেকে বের হই।

ট্রেন দুর্ঘটানর সংবাদ পেয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসমাইল হোসেন, থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী ও রেলওয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে এসে যাত্রীর নিরাপত্তাসহ উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও ঘটনাস্থলে এসে যাত্রীদের সহযোগীতা করেছেন।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম, লাকসাম ও আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে ইফতারের আগ থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তিনি আরও জানান, এ দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রামের সাথে ঢাকা-সিলেট-ময়মনসিংহের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেন জানান, ইঞ্জিনের পেছনে বাফারস্ট্যান্ড (বগি আটকানো) ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ট্রেনের ১৮টি বগির মধ্যে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লায় কর্ণফুলী, জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদলে চট্টলা, লাকসামে সাগরিকা ও পাহাড়িকা ট্রেন আটকা পড়ে। তিনি আরো জানান, ৩টি উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তার ধারণা- রাত ১১টার মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য যাত্রীদের উদ্ধার করে তাদের গন্তব্যস্থলে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।