https://bangla-times.com/
ঢাকাশনিবার , ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

ফসলি জমিতে পুকুর খনন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত

মোঃ সৌরভ হোসাইন (সিরাজগঞ্জ)
ডিসেম্বর ২, ২০২৩ ৮:০০ পূর্বাহ্ণ । ১০১ জন
Link Copied!

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনাবাদী জমি খুঁজে বের করে চাষাবাদের আওতায় আনার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। অনাবাদী জমি খুঁজে বের করা তো দূরের কথা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ফসলি জমি নষ্ট করে আবার শুরু হয়েছে পুকুর কাটার ধুম। প্রশাসনে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকরা।

অভিযোগ মতে, প্রশাসন খুবই দায়সারাভাবে অভিযান করছে। পুকুর খাদকদের সামান্য অর্থ জরিমানা করছেন। জরিমানার টাকা গুণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার শুরু হচ্ছে খনন।এলাকাবাসীর অভিযোগে আরও জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম গত হতেই সিরাজগঞ্জে আবার শুরু হয়েছে পুকুর কাটার কাজ। দুই-তিন ফসলি ও অপেক্ষাকৃত নিচু জমিগুলো পুকুর খাদকদের মূল টার্গেট। কিন্তু এবার নিচু জমি ছেড়ে চার ফসলি জমিতে রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যে ধুবিল ইউনিয়নের আমসাড়া এলাকায় ফসলি জমিতে পুকুর খননের ধুম পড়েছে এবং তা চলছে গত এক মাস ধরে।

অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন দায়সারা অভিযান পরিচালনা করছেন, তবে থামাতে পারছে না পুকুর খনন যজ্ঞ। প্রতি বছর সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জ তাড়াশের আশপাশের এলাকায় পুকুরের পেটে শত শত বিঘা ফসলি জমি চলে গেছে। ফলে চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় , রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের আমসাড়া গ্রামে তিন ফসলি ৫ বিঘা জমিতে পুকুর কাটছেন আওয়ামী লীগ নেতা (বারেক সরকার) সহ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, এসব জমি তিন থেকে চার ফসলি । প্রচুর ধানসহ অন্য ফসল ফলে। এখন প্রভাবশালীরা এসব জমিতে জোরপূর্বক পুকুর কাটছেন। এই ৫ বিঘা জমিতে পুকুর কাটা হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে।

তবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে খাদকরা পুকুর খননের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে আবাদি জমিতে পুকুর খননে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এর পরও উপজেলার ধুপিল ইউনিয়নের আমসাড়া , চুনিয়াখারা , তাড়াশ উপজেলার , পৌঁষার, এলাকায় দেদারসে পুকুর খননের কাজ চলছে। বর্ষা মৌসুম গত হতেই পুকুর খননের হিড়িক লেগেছে জেলাজুড়ে।

রায়গঞ্জের বেতুয়া গ্রামের কৃষক তারেক হোসেন বলেন, গত ৫ বছরে তার উপজেলার ২ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন হয়েছে। একই পরিস্থিতি পার্শ্ববর্তী তাড়াশ, উপজেলার।

রায়গঞ্জ উপজেলার আমসাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ফসলি জমি উজাড় করে রায়গঞ্জ তথা আমসাড়া যেভাবে পুকুর কাটা হচ্ছে, তাতে আগামীতে চাষাবাদের জন্য কোনো জমি আর অবশিষ্ট থাকবে না।

এদিকে পুকুর খনন বন্ধে স্পষ্টভাবে আইন থাকার পরও আইনের সঠিক প্রয়োগ না করার অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

উপজেলার আমসাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, পুকুর খনন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বিশেষ কোনো কাজে আসছে না। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত চলমান থাকে কুকুর খননের কাজ, আর শুক্র ও শনিবার দিবারাত্রি চলে কারণ যারা পুকুর কাটছেন তাদের কাছে সামান্য টাকা জরিমানায় তেমন বিশেষ কিছুই নয়। বরং পুকুর খননের যন্ত্রপাতি জব্দ করে রাখা হলে পুকুর খননে কিছুটা ভাটা পড়ত। কারণ রাতারাতি এসব ভেকু মেশিনসহ যন্ত্রপাতি সহজে সংগ্রহ করা সম্ভব হতো না।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৃপ্তি কণা মন্ডল মুঠো ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান আমরা পুকুর খননের অভিযোগ পেলেই প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে থাকি এবং অবৈধ পুকুর খননের কোন সুযোগ নেই আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ পুকুর খননকারী ভূমিদস্যু (বারেক সরকার) কাজ শুরুর আগেই উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অবৈধ পুকুর খনন করতে থাকেন এসব ক্ষেত্রে বিপুল টাকার লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর চাপে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও বাস্তবে কোনো ফল হচ্ছে না। প্রশাসনের সঙ্গে ইঁদুর-বিড়াল খেলে প্রভাবশালীরা ঠিকই পুকুর কেটে ফেলছেন।