https://bangla-times.com/
ঢাকামঙ্গলবার , ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

পেঁয়াজ আবাদে বেড়েছে পাবনায়

পাবনা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ ৩:১৬ অপরাহ্ণ । ৪৩ জন
Link Copied!

পাবনা জেলায় এ বছর ৮ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে কন্দ বা মূলকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৮ মেট্রিক টন। 

এবার মৌসুমের শেষের দিকে এসে দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। পাবনায় মূলকাটা পেঁয়াজ চাষ গত বছরের তুলনায় ১২০ হেক্টর বা প্রায় এক হাজার বিঘা বেড়েছে। প্রায় প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পেঁয়াজ চাষে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চাষিরা আবার পেঁয়াজ আবাদে ঝুঁকছেন। 

চাষিরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শেষে অনেক দাম বাড়লেও সব চাষি সেই লাভ পান না। এজন্য তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন ভরা মৌসুমে তাদের কিছুটা লাভ যেন নিশ্চিত করা হয়।

পাবনার পেঁয়াজ প্রধান এলাকা সাঁথিয়া, আটঘরিয়া,  সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক চাষি এখন মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজ লাগানোয় ব্যস্ত। আবার চারা বা হালি পদ্ধতিতে চাষের জন্য চাষিরা জমিতে বীজ বপন বা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর। গত বছর চাষিরা পেঁয়াজ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সরিষা চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছিলেন। তবে এবার পেঁয়াজচাষ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাবে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার চাষিরা দুটি পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ করে থাকেন। এর একটি কন্দ (মূলকাটা বা মুড়ি) ও অন্যটি চারা (হালি) পদ্ধতি। মূলকাটা পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আর হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। 

মূলকাটা পদ্ধতিতে আবাদ করা নতুন পেঁয়াজ জানুয়ারি মাসে হাটে উঠতে শুরু করে। আর হালি পদ্ধতিতে চাষ করা পেঁয়াজ হাটে উঠতে শুরু করে মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে এপ্রিল মাসে।

কৃষি কর্মকর্তারা আরও জানান, দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। পাবনা জেলা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন যা মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশ। 

আর পাবনা জেলার সাঁথিয়া-সুজানগর উপজেলা থেকে উৎপাদন হয় প্রায় পৌণে পাঁচ লাখ টন। সে হিসাবে সারা দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় পাবনার এ দুটি উপজেলা থেকে।

পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপেজলার বিল গাজনা পাড়, বিল গ্যারকা পাড়, কুমিরগাড়ী, বামনডাঙ্গা, বামনদি, ইসলামপুর প্রভৃতি মাঠে গিয়ে দেখা যায় চাষিরা মূলকাটা পেঁয়াজ চাষ করতে ব্যস্ত। 

অনেক চাষি চারা (হালি) পদ্ধতির পেঁয়াজ চাষের জন্য বীজ পরিচর্যায় ব্যস্ত। গত বছর যেসব জমিতে চাষিরা সরষে বা গম চাষ করেছিলেন সেসব জমিতে এবার পেঁয়াজ চাষ করছেন।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর পেঁয়াজ আবাদে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বিশেষ করে যারা অন্যের জমি লিজ বা চুক্তি নিয়ে আবাদ করেছিলেন তারা বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। অন্যান্য ফসলেও চাষিরা মার খাওয়ায় এবছর অনেক চাষি পেঁয়াজ আবাদ করতে পারেননি। 

যারা চাষ করেছিলেন তারা মৌসুমে দাম পাননি। তবে বছরের শেষে দাম বাড়ায় দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যেসব চাষিরা পেঁয়াজ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন তারা আবার এ বছর পেঁয়াজ চাষে নেমেছেন।

সুজানগর উপজেলার বামনদি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজ হলো মসলা ফসল। অথচ তারা মসলার বাজার অনুযায়ী দাম পান না।

সাঁথিয়া উপজেলার চাষি জসীম উদ্দিন বলেন, পেঁয়াজ আবাদে খরচই পড়ে যায় ১২শো টাকা মণ। মৌসুমের শেষে ওজন অর্ধেক কমে যায়, অনেক পেঁয়াজ পচে যায়। আবার বেশিরভাগ চাষি বছরের শেষ পর্যন্ত ঘরে পেঁয়াজ রাখতেও পারেন না। 

দেনার কারণে অগেই বিক্রি করে ফেলতে হয়। তাই মৌসুমে ভালো দাম থাকলে সব চাষি উপকৃত হবেন।

সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজ চাষি মিল্লাদ হোসেন জানান, এখন পেঁয়াজ চাষে অনেক খরচ। এছাড়া অনেক ছোট-বড় চাষি চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েও পেঁয়াজ চাষ করেন। নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে বাজার উঠলে দাম কমে যায়।

তিনি তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, মূলকাটা বা কন্দ পেঁয়াজ ১৫শো টাকা মণ বিক্রি করা না গেলে ক্ষতির শিকার হতে হয়। গত বছর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তারা পেঁয়াজ চাষ কমিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও পাবনা জেলার বিশিষ্ট চাষি সিদ্দিকুর রহমান জানান, পেঁয়াজ চাষ করে চাষিরা ক্ষতির শিকার হওয়ায় আবাদ কমে যাচ্ছে। পেঁয়াজ চাষে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সরকারি ঘোষণা থাকলেও সাধারণ চাষিরা সে সুবিধা পাচ্ছেন না। 

অনেকেই চড়া সুদে মহাজনী ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যান্য ফসলের মতো পেঁয়াজের উফশী (উচ্চ ফলনশীল) জাত সম্প্রসারণ করা দরকার বলেও তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর পাবনার উপ-পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন জানান, এবার আবহাওয়া ভালো। কৃষির মাঠকর্মীরা চাষিদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

তিনি জানান, পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ছে। চাষিরা নায্যদাম পাবেন বলে তারা আশাবাদ।