https://bangla-times.com/
ঢাকাশুক্রবার , ৮ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য

নানান আয়োজনে রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত

রাজশাহী ব্যুরো
মার্চ ৮, ২০২৪ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ । ২৮ জন
Link Copied!

‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ, এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে শুক্রবার (৮ মার্চ) নানা আয়োজন এবং নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়।

জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা নিয়ে অতিথিবৃন্দ কোর্ট শহিদ মিনারের সামনে দিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যেয়ে শেষ করেন। শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর সভাপতিত্বে সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি ও নারী নেত্রী শাহীন আকতার রেনী।

উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরা, এডিএম সাবিহা সুলতানা, এজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন, রাসিক সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর সুলাতানা আহমেদ সাগরিকা, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মানুয়েল টুডুসহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের নারী নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি মার্চ মাসকে মুজিবীর মাস উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই মাসে বহু দিবস রয়েছে। জাতীয় চার নেতা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ৭মার্চ ছিলো ঐতিহাসিক ভাষন দিবস, আসছে ১৭ তারিখ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী, আসছে ২৫ কালরাত্রী এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।

প্রধান অতিথি বলেন, যুগে যুগে নারীরা পুরুষের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সকল কাজে সহযোগিতা করেছেন। যার উদাহরণ ৭মার্চ বাংলাদশের স্বাধীনতাপূর্ব স্বাধীনতার ভাষন। যার সাহস ও বুদ্ধি দিয়েছিলেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেসা। তাঁর কথামত বঙ্গবন্ধু মঞ্চে উঠেই ভাষণ প্রদান করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, ১৯০৮সালে আমেরিকাতে ন্যায্য মজুরীর জন্য আন্দোলন করেছিলেন। সেইথেকে নানা পর্যায়ের পর থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সেইসাথে এটা জাতিসংঘেও অনুমোদিত হয়েছে।

১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নারীদের অধিকার সংরক্ষণে চাকুরীর জন্য ১০ভাগ কোটা বাস্তবায়ন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নারীরা এখন সর্বক্ষেত্রে চাকরী করছে। শুধু তাইনয় আইন প্রনয়ণ থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৮সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পরে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রধানমন্ত্রী এখন বাংলাদশেকে স্মার্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। আর এটা করতে হলে সবাইকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাদীক্ষায় স্মার্ট হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সরকারের ১০টি সুচকের মধ্যে নারী উন্নয়ন হচ্ছে একটা সুচক। এই সুচক বাস্তবায়ন করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষাটভাগ নারী কোটা করা হয়। সেইসাথে বিভিন্ন কমিটি ও স্থানীয় ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা করা করেছেন সরকার। সেইসাথে নীতি নির্ধারনী জায়গাতে নারীদের অংশগ্রহন এখন উল্লেখযোগ্য বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, নারীদের উন্নয়নে নারীরা অনেকাংশে বাধা এবং নারী নির্যাতনেও নারীরা কম এগিয়ে নাই উল্লেখ করে সকল অপকর্ম থেকে বেড়িয়ে আসার আহŸান জানিয়ে নারী উন্নয়নের তাঁর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। বক্তব্য শেষে দুই জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।