https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ২২ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

দল ছেড়ে নির্বাচনমুখী বিএনপি নেতারা

বাংলা টাইমস্
নভেম্বর ২২, ২০২৩ ৬:১৫ অপরাহ্ণ । ৬৭ জন
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেনর তফসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনমুখী হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করেছে দলগুলো। তবে নির্বাচনে না আসার পক্ষেই রয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় অনেক নেতা দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনমুখী হচ্ছেন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য আতঙ্ক উঠেছে নতুন দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বিএনএম এবং তৃণমূল বিএনপি।বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা যোগও দিয়েছেন।

ওয়ান ইলেভেনের পর দুর্নীতির তকমা, সংস্কারের নামে দ্বিধাবিভক্তি, তারেক রহমানের দেশত্যাগে ফুটে ওঠে বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা। ২০০৮ এর নির্বাচনে ভরাডুবির পর ১৪তে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও কারণে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবারের আন্দোলনে জনসাধারণের সাড়া নেই বলে বিএনপির নেতারাই আফসোস করছেন।এসব দিক বিবেচনা করেই তারা দল ছাড়ছেন।

এদিকে, তিন দল নিয়ে কল্যাণ পার্টি জোট গঠন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।সাবেক মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের দল কল্যাণ পার্টি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলনসঙ্গী ছিলেন।

বুধবার (২২ নভেম্বর) আরও দুটি দলকে সঙ্গে নিয়ে ভোটে আসার ঘোষণা দিয়েছে কল্যাণ পার্টি। যুক্তফ্রন্ট নামের ওই জোটে কল্যাণ পার্টির সঙ্গে রয়েছে- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল), বালাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (হাতপাঞ্জা)।

ইবরাহিমের নেতৃত্বে যুক্তফ্রণ্ট গঠনের দুইদিন আগে খোদ বিএনপিতেই ভাঙন ধরেছে। দলটি ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) নেতৃত্বে এসেছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনএম। দলটি বলছে, তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এবং অন্তত দুই ডজন সাবেক সংসদ সদস্য তাদের সঙ্গে যোদ দেবেন।

বিএনএমের সঙ্গে ইতোমধ্যে রয়েছেন বিএনপির তিনজন সাবেক সংসদ সদস্য। তারা হলেন–ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওহাব, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সা্বেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান।

সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হরতাল-অবরোধের নামে সহিংস কর্মসূচিতে রয়েছে। কল্যাণ পার্টিসহ সমমনা দল ও জোটগুলোও একই কর্মসূচি পালন করে আসছিলো। প্রায় ৩৯টি দল এক জোট হয়ে এই আন্দোলন চালাচ্ছে।

২০০৭ সালে ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ পর জরুরি অবস্থার মধ্যে ‘পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির জন্ম হয়। যুক্তফ্রন্ট গঠনের আগে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং সর্বশেষ জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে ১২ দলীয় জোটে ছিলেন।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আমরা মাঠে দাবি আদায়ে সফল না হয়ে, বিকল্প পন্থায় ভোটে অংশ নিয়ে অবদান নিতে চাই। আশা করছি, এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জোটগতভাবে নির্বাচনে যাব। জয়ী হলে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে চাইব। বিরোধী দলে থেকে আমরা জনগণের জন্য কাজ করব। জোটের পক্ষ থেকে ১০০ আসনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি রয়েছে। কল্যাণ পার্টি ২০১২ সালে ১৮ দলীয় জোটে ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় সিদ্ধান্ত হয়।

সরকার পতনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল ও অবরোধ চলার মধ্যে ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী দল বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকেও অবসরে যান। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে চেয়ারপারসন ও বিএনপির আরেক সাবেক নেতা তৈমুর আলম খন্দকারকে মহাসচিব করে তৃণমূল বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করা হয়। দলটি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে বলেও ঘোষণা দেয়।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ভোটগ্রহণ হবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।