https://bangla-times.com/
ঢাকাশনিবার , ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

দক্ষিণে এখনো চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

শাহ জালাল, বরিশাল
ডিসেম্বর ২, ২০২৩ ৭:১২ অপরাহ্ণ । ১১৮ জন
Link Copied!

বরিশাল অঞ্চলের শুধু সরকারী হাসপাতালগুলোতেই ভর্তিকৃত প্রায় ৩৮ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে মৃত্যুর মিছিলে সংখ্যাটা ২’শর কাছে। এখনো প্রতিদিন সরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪শ। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবেই এখনো ঢাকার পরে বরিশালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশী।

বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অক্টোবর মাসে প্রায় ৮ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৪৮ জনের মৃত্যুর পরে নভেম্বরেও ভর্তিকৃত আরো ৪ সহস্রাধিকের মধ্যে মৃত্যুর মিছিলে ৪০ জনের নাম যোগ হয়েছে। এমনকি নভেম্বরের বেশ কয়েক দিনই দৈনিক ৪-৬ জনেরও মৃত্যু হয়েছে। যার বেশীরভাগই বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমনকি নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে।

বিগত বছরগুলোতে সারা দেশের মত বরিশাল অঞ্চলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে আসলেও এবছর ডিসেম্বরের শুরুতেও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু হানা দিচ্ছে। নভেম্বরের প্রথমভাগে প্রতিদিন ২শর ওপরে ডেঙ্গু রোগী সরকারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও মাসের শেষভাগে তা কিছুটা কমে এসেছে। এর পেছনে অবশ্য গত ২৪ নভেম্বর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাবে প্রবল বর্ষণকে আশির্বাদ বলছেন স্বাস্থ্য বিভাগের অনকেই। তাদের মতে ঐ ঝড়ের প্রভাবে মাত্র ১২ ঘন্টায় বরিশাল মহানগরীতেই প্রায় ৩শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল।

এত অল্প সময়ের টানা প্রবল বর্ষণে পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই এডিস মশা ও তার লার্ভা ধুয়ে মুছে অনেকটাই সাফ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সিটি করপোরেশন সহ স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মহলও। তবে মৃত্যুর মিছিল এখনো ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে।

অপরদিকে, উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে এখনো অন্তত তিনগুন ডেঙ্গু রোগী সরকারী হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানিয়েছেন। এমনকি এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরে বরিশালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশী বলে মনে করছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগেরই একাধিক সূত্র।

গত ১ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সরকারী হাসপাতাল গুলোতে ভর্তিকৃত প্রায় ২৫ হাজার ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছিলেন ২৩ হাজার ৫৯০ জন। কিন্তু ১৮ অক্টোবরই এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার অতিক্রম করে। ওইদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয় ১০২ জনের। যারমধ্যে ৭২ জনই বরিশালে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবে অক্টোবরের শেষ দিন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ৩২ হাজার ৭৩২ জন রোগীর মধ্যে দেড়শ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। আর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত সাড়ে ৩৭ হাজারের মধ্যে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৮ হাজার সহ বরিশাল জেলাতেই ভর্তিকৃত রেগীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫৫ জনের। মৃতের এ সংখ্যার মধ্যে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ১৫১ জন মারা গেছেন। এখনো শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে মৃতদের বেশীরভাগই ভর্তির ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছেন। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে এ হাসপাতালেই মৃত্যুহার সর্বাধিক বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিংখ্যান বলছে।

কতৃপক্ষের দাবী, ‘সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধিক জটিল ও মুমূর্ষ রোগীদেরই এ হাসপাতালে পাঠান হচ্ছে।’অপরদিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ জেলাটিতে ভর্তিকৃত প্রায় ৮ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ভোলাতে প্রায় ৪ হাজার ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ১০জন মারা গেছেন।

পিরোজপুরে প্রায় ৭ হাজার ২শ ভর্তিকৃত রোগীর মধ্যে ১২ জনের মৃত্যুর কথা বলেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। বরগুনাতেও সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ডেঙ্গু রোগীর ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মাত্র ৪ উপজেলা নিয়ে গঠিত সবচেয়ে ছোট জেলা ঝালকাঠীর সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত সহস্রাধিক ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর কথা বলছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

তবে বরিশাল মহানগরীর পাশের এ জেলাটির সিংহভাগ রোগীই শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এ হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেয়া ও মৃত্যুবরনকারী রোগীদের একটি অংশই ঝালকাঠী জেলার বলে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে বলা হয়েছে।