https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৪

ঝালকাঠিতে বেপরোয়া ট্রাক চাপায় শিশুসহ ১৪ জনের প্রাণহানি (দেখুন ছবিতে)

শাহ জালাল, বরিশাল
এপ্রিল ১৭, ২০২৪ ৫:৫৩ অপরাহ্ণ । ৩৩ জন
Link Copied!

ঝালকাঠির গাবখান টোল প্লাজায় সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস ও অটোরিক্সা নিয়ে খাদে পড়ে। এতে নারী, শিশুসহ ১৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১২ জন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঝালকাঠি-খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি পৌর এলাকার গাবখান ব্রীজের কিফাইত নগর এলাকার পঞ্চম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী গাবখান সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

oppo_1024

পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে গেছে। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল মৃত্যু ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল নিঝুম উদ্ধার কাজে তত্ত্বাবধান করছিলেন।

এদিকে, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ববরণকারীদের তিন লাখ টাকা ও আহতদের এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম।

স্থানীয়রা জানান, সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক গাবখান ব্রিজ থেকে নামার সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। টোল প্লাজায় অবস্থানরত ১ মাইক্রোবাস বিবাহের যাত্রীবাহী ও ৩টা অটোরিক্সা ও১টি পিকআপসহ ৫টি যানবাহন টোল দেয়ার জন্য অপেক্ষমান থাকা গাড়িগুলোকে ধাক্কা দিয়ে পার্শ্ববর্তি পড়ে যায়। ট্রাকের ক্ষতি কম হলেও মাইক্রোবাস ও অটোরিক্সাটি দুমড়ে মুচরে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয়রা এবং ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালায়। এ সময় বিধ্বস্ত যানবাহন থেকে রক্তাক্ত অনেক দেহ বের করা হয়। এর মধ্যে টোলপ্লাজার কর্মীরাও রয়েছে। উদ্ধারকৃত ক্ষতবিক্ষত দেহগুলো সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে ১৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।এদের মধ্যে গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎর জন্য বরিশাল শের ই বাংলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

oppo_1024

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল জানান, বরিশাল বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেটকার ও তিনটি অটোরিকশা যাচ্ছিল শহরে। দুপুর দুইটার দিকে গাবখান টোলপ্লাজায় টোল দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি অটোরিকশা। এ চারটি যানবাহন ঝালকাঠি শহরের মধ্যে যাচ্ছিল। এসময় দ্রুতগতিতে আসা একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো ০৯৫৭) প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাগুলোকে চাপা দেয়। এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাগুলো। ঘটনাস্থলেই মারা যায় অটোরিকশার ৬ যাত্রী। পরে প্রাইভেটকার থেকে আরও ৮ যাত্রীকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৮ জনের মৃত্যু হয়।

oppo_1024

নিহত ১৪ জনের মধ্যে শিশু ৪ জন, নারী ৩ জন ও পুরুষ ৭ জন। নিহতদের বাড়ি রাজাপুর, ভান্ডারিয়া ও কাঠালিয়া উপজেলায়। সড়ক দুর্ঘটনায় এমন মৃত্যু দেখে স্থানীয়রা হতবাক । নিহতদের লাশ হাসপাতালের করিডোরে রাখা হয় এবং নিহতদের সনাক্ত করার পর পরিচয় জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী গাবখান টোলের কর্মী আবুল বাশার (৫০) বলেন, প্রাইভেটকার ও তিনটি ব্যাটারীচালিত অটো টোল দেয়ার জন্য অল্পগতিতে ছিল। হঠাৎ করে পশ্চিম দিক থেকে আসা দ্রুত গতির ট্রাকটি প্রাইভেটকার অটোকে চাপা দিলে কার ও অটো দুমরে মুচরে যায়। মুহুর্তোর মধ্যে কি হয়ে গেল বুঝলাম না । শুধু রক্ত আর কান্না।

তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা ট্রাকের ব্রেক ফেল করেছিল। এ কারণে টোলপ্লাজায় ব্রেক না করেই সরাসরি প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মৃতদের নাম ঠিকানা যাচাই বাছাই চলছিল।