https://bangla-times.com/
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

জাপার ঘার্টিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী আ’ লীগের ১৫ নেতা

বাংলা টাইমস্
নভেম্বর ২৩, ২০২৩ ৬:০৭ অপরাহ্ণ । ৭২ জন
Link Copied!

জাতীয় পার্টির ঘাটি বলে দাবি করা রংপুর সদর-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগ থেকে ১৫ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছে। এদের মধ্যে অনেকেই লাইম লাইটে আসা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য প্রার্থী হতে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন তৃনমুল নেতা কর্মীরা। তবে যারা মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন তাদের দাবি মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত ভাবে এই আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবেন।

রংপুর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় নগরী রংপুরের সিটি করপোরেশনের ২৩টি ওয়ার্ড ও ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে রংপুর সদর ৩ আসন গঠিত। এখানে মোট ভোটার হচ্ছে ৫ লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ১শ ৬৯ জন , নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭শ ৯৯জন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর ৩ আসনে ১৫ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাবার জন্য আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্যরা হলেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহবায়ক ডা, দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বার অফ কর্মাসের প্রেসিডেন্ট ব্যবসায়ী নেতা সাবেক ছাত্র নেতা রেজাউল করিম মিলন, রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান ববি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আহবায়ক কমিটির সদস্য রোজী রহমান , রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক মাজেদ আলী বাবুল, রংপুর আইনজিবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক এ্যাডভোকেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক আনোয়ারুল ইসলাম . আওয়ামী লীগ নেতা নবী উল্লাহ পান্না,সেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর সভাপতি আতাউউজ্জামান বাবু সহ অন্যান্যরা।

আওয়ামী লীগের তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা বলেছেন যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাদের বেশীর ভাগ নেতাদের সাথে দলের নেতা কর্মীদের সাথেই কোন যোগাযোগ নেই। তাদের অনেকের জনসংপৃক্তাও নেই। শুধু তাই নয় রংপুর সদর ৩ আসনের ভোটাররা অনেককে চেনেও না। অনেকে আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বলে অভিযোগ তৃনমুল নেতা কর্মীদের।

সবচেয়ে বড় বিষয় স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর এই আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী কোন নির্বাচনে জয়ী হয়নি। ফলে রংপুর সদর ৩ আসনে একজন য্গ্যো সকলের কাছে গ্রহন যোগ্য প্রার্থী চান দলের নেতা কর্মীরা।

১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ আসনে বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান এমপি হচ্ছেন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন রংপুর আর জাতীয় পার্টি ফেবিয়া নেই তাদের ঘাটিতে ফাটল ধরেছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর রংপুরে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। রংপুরকে সিটি করপোরেশন ,রংপুরকে বিভাগ , বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ সহ রংপুর সদর ৩ আসনে রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামোর যে উন্নয়ন হয়েছে সে কারনে জনগন আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটান চেম্বার প্রেসিডেন্ট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল ইসলাম মিলন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের পুত্র বধূ। শেখ হাসিনা রংপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে গ্রহন করার পর এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। তাকে দলের মনোনয়ন দেয়া হলে দুর্নিতীর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করে জনগনের পাশে থাকবো এবং আরো উন্নয়ন কার্যক্রম করবো।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর সিটি করপোরেশনসহ পুরো সদর ৩ আসনের প্রতিটি পাড়া মহল্লা গ্রামে গনসংযোগ করেছি। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয় প্রচার করিনাই। শুধু তাই নয় দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে দীর্ঘদিন বন্ধাত্ব ঘোচাতে সক্ষম হবো বলে জানান তিনি।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আহবায়ক ডা, দেলোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ রংপুর মহানগরে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকান্ড আর সাংগঠনিক শক্তি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হবার আশা প্রকাশ করেন তিনি। রংপুর আইনজিবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন মনোনয়ন পেলে রংপুর সদর আসনটি নিশ্চিত ভাবে আওয়ামী লীগকে উপহার দেবার আশা প্রকাশ করেন তিনি।