https://bangla-times.com/
ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

জাপায় গৃহবিবাদ, নির্বাচনে যাবেন না রওশন!

বিশেষ প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৮, ২০২৩ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ । ১৩৭ জন
Link Copied!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টিতে আবারও গৃহবিবাদ শুরু হয়েছে। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ ও চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের দ্বন্দ্বে বিভক্তির মুখে পড়েছে দলটি।

সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলের মনোনয়ন সংগ্রহ করেননি রওশন। তবে জাতীয় পার্টিতে রওশনপন্থীরা জানিয়েছেন, জিএম কাদেরের সঙ্গে সমঝোতা না হলে, নির্বাচনে যাবেন না রওশন এরশাদ। ময়মনসিংহ–৪ আসনটিতে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি জাতীয় পার্টি।

রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী। দলের একটি অংশে তাঁর বেশ প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়।

সোমবার ২৮৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টি। এবার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুটি আসন ঢাকা–১৭ এবং রংপুর–৩ থেকে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে রংপুর–৩ আসনে হওয়া উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন তার ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির একাংশের নেতাদের অভিযোগ, দলে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতা–কর্মীদের এবার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। রংপুর–১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন দলের সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতা এবার মনোনয়ন পাননি। তার জায়গায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এইচ এম শাহরিয়ার আসিফকে।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকে বনানীর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় ছিল বিক্ষুব্ধদের দখলে। সোমবার ঘোষিত চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় নাম না থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতা–কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যোগ্যদের বাদ দিয়েই তালিকা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে জাতীয় পার্টিতে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতারা বৈঠক করেন দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশনের গুলশানের বাসভবনে। বৈঠক শেষে দলের এই অংশের নেতারা জানান, বিভক্তির দিকেই এগোচ্ছে জাতীয় পার্টি।

বিরোধী দলীয় নেতা রওশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা গোলাম মসীহ বলেন, ‘যদি ডিভাইডেড জাতীয় পার্টি হয়, রংপুর–৩ এবং আমাদের সিটগুলো নিয়ে যদি আমাদের যারা আছে তাদের যদি সেভাবে মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে উনি (রওশন) নির্বাচনে যাবেন না। উনি সেটাই ক্লিয়ার করলেন।’

বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, ‘রওশন এরশাদ যদি নির্বাচনে না যান তাহলে আমরাও সেই নির্বাচনে অংশ নেব না। উনি বলেছেন, শুধু আমার ছেলেই নয়, সবাই আমার সন্তান। তাদের জায়গাগুলো তাদের দিতে হবে।’

২০১৯ সালে এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আসেন তার ছোট ভাই জি এম কাদের। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন রওশন। দুজনই নিজেদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ও রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করা হয়।

এরপর ২০২২ সালে আবারও দলের এই গৃহবিবাদ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা-না থাকাকে কেন্দ্র করে। জি এম কাদেরপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোট থেকে বের হয়ে বিএনপির সাথে বা আলাদা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। অন্যদিকে রওশনপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোটেই থেকে যাওয়া।

একপর্যায়ে ওই বছরের আগস্টে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রওশন এরশাদ কেন্দ্রীয় সম্মেলন ডাকেন। সে সময় রওশনের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

ফলে জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদে থাকাকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলাও করা হয়। এতে শুরুতে জি এম কাদেরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। পরে অবশ্য উচ্চ আদালতের রায়ে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান জি এম কাদের।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।