ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ, তদন্তে পর্তুগাল ফেডারেশন দুমকি উপজেলা ফিজিক্যাল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বশিরুল, সম্পাদক মনিরুল ডেঙ্গুর প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, আরও ৪ মৃত্যু ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, মমতা-কেজরিওয়ালসহ একাধিক বিরোধী নেতা আটক ভোটচুরির অভিযোগে দিল্লিতে আটক মমতা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে রাণীশংকৈলে প্রশিক্ষণ শুরু রাণীশংকৈলে ৫৫ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি সভা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্থগিত যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

জয়পুরহাট স্টেডিয়ামের সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন থেকে খেলাধুলা বন্ধ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাট স্টেডিয়ামের সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন থেকে খেলাধুলা বন্ধ ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে আট মাস ধরে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে খেলোয়াড়দের অন্য মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। মাঠগুলো তুলনামূলক ছোট, আবার সেখানে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এতে খেলোয়াড়রা যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল, নিম্নমানের মাটি দিয়ে ঠিকাদার মাঠের সংস্কার করছেন। পরে অবশ্য প্রশাসনের বাধায় সেই মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। 

খেলোয়াড়সহ ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করে মাঠটি খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হোক। ঠিকাদার অবশ্য কাজ দেরিতে হওয়ার কারণ হিসেবে সময় মতো মাটি না পাওয়াকে দায়ী করেছেন। আর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কার শেষ হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে জয়পুরহাট শহরের রূপনগর এলাকায় চার একর জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে স্টেডিয়ামের মাঠ, প্যাভিলিয়ন, স্বল্প আসনের গ্যালারি সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। আর এ কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাফসা ট্রেড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল। চার মাসেই সংস্কারকাজ করে মাঠসহ স্টেডিয়ামটি ঠিকাদারের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় আট মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় মাঠটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। 

একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন খেলোয়াড় জানিয়েছেন, এক সময় এই জেলা থেকে অনেক কৃতি খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখেছেন। কিন্তু মাঠের অভাবে এখন জেলার ক্রীড়াঙ্গন একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় মাঠটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার নারী ক্রিকেটার শান্তনা আক্তার বলেন, ‘আমি অনূর্ধ্ব ১৮ দলে খেলব। এ জন্য আমার নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। কিন্তু জয়পুরহাট স্টেডিয়ামটি আট মাস ধরে বন্ধ আছে। এ কারণে সেখানে অনুশীলন করতে পারছি না। কোনো দিন সুগারমিল মাঠ, আবার কোনো দিন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি মাঠে অনুশীলন করছি। এসব মাঠে পিচ, ওয়াশরুম বা ড্রেসিং রুম নেই। এ কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

কারাতে খেলোয়াড় নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি স্টেডিয়ামটিতে নিয়মিত কারাতে অনুশীলন করতাম। বর্তমানে মাঠ সংস্কারকাজ চলমান থাকায় চিনিকল মাঠে এসে অনুশীলন করছি। গত ডিসেম্বরে মাঠে একটি টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্টেডিয়াম বন্ধ থাকার কারণে সেটি হয়নি। এ ছাড়া মাঠ না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন করতে পারছি না। তাই দ্রুত স্টেডিয়ামটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

ক্লাব কর্মকর্তা কবির আকবর চৌধুরী তাজ বলেন, ‘স্টেডিয়ামটি উন্নয়নের নাম করে সাত-আট মাস ধরে তছনছ করে রাখা হয়েছে। কবে মাঠ বুঝে পাব সেটাও জানি না।’ তিনিও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানান।

প্রাক্তন ফুটবলার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘মাঠ সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ করতে গড়িমসি করছেন। যেই মাটি দিয়ে সংস্কার করার কথা তার চেয়ে অনেক নিম্নমানের মাটি এখানে ফেলা হয়েছিল। এ ধরনের মাটি ব্যবহার করলে মাঠের স্থায়িত্ব বেশিদিন হবে না।’

কারাতে কোচ শাহজাহান আলী দেওয়ান সাজু বলেন, ‘২০২৪ সালের জুন মাসে বলা হয় স্টেডিয়াম সংস্কার হবে, এ জন্য অন্য মাঠে অনুশীলন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানায় তিন-চার মাসের মধ্যে মাঠ সংস্কার হবে। আত্মরক্ষার জন্য অনেক মেয়ে কারাতে শেখে। কিন্তু বর্তমান খোলা মাঠের কারণে ভালো পরিবেশ না থাকায় তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই অনুশীলনে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যেসব নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হতো, তারাও আসছে না। বিভিন্ন জায়গায় টুর্নামেন্ট হচ্ছে, সেই প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। এ অবস্থা যদি বেশিদিন চলতে থাকে, তাহলে খেলার মান ভবিষ্যতে ভালো হবে না।’

ঠিকাদার টুটুল হোসেন বলেন, ‘কাজটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো মাটি না পাওয়ার কারণে কাজের একটু ধীরগতি হয়েছে। মাটির সমস্যা ছিল, সেটা ঠিক করে দিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে যাবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিপুল কুমার বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জয়পুরহাট স্টেডিয়ামের সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন থেকে খেলাধুলা বন্ধ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জয়পুরহাট স্টেডিয়ামের সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন থেকে খেলাধুলা বন্ধ ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে আট মাস ধরে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে খেলোয়াড়দের অন্য মাঠে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। মাঠগুলো তুলনামূলক ছোট, আবার সেখানে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। এতে খেলোয়াড়রা যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছিল, নিম্নমানের মাটি দিয়ে ঠিকাদার মাঠের সংস্কার করছেন। পরে অবশ্য প্রশাসনের বাধায় সেই মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়। 

খেলোয়াড়সহ ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করে মাঠটি খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হোক। ঠিকাদার অবশ্য কাজ দেরিতে হওয়ার কারণ হিসেবে সময় মতো মাটি না পাওয়াকে দায়ী করেছেন। আর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই সংস্কার শেষ হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে জয়পুরহাট শহরের রূপনগর এলাকায় চার একর জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে স্টেডিয়ামের মাঠ, প্যাভিলিয়ন, স্বল্প আসনের গ্যালারি সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। আর এ কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাফসা ট্রেড অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল। চার মাসেই সংস্কারকাজ করে মাঠসহ স্টেডিয়ামটি ঠিকাদারের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় আট মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় মাঠটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। 

একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন খেলোয়াড় জানিয়েছেন, এক সময় এই জেলা থেকে অনেক কৃতি খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে অবদান রেখেছেন। কিন্তু মাঠের অভাবে এখন জেলার ক্রীড়াঙ্গন একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় মাঠটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

আক্কেলপুর উপজেলার শান্তা এলাকার নারী ক্রিকেটার শান্তনা আক্তার বলেন, ‘আমি অনূর্ধ্ব ১৮ দলে খেলব। এ জন্য আমার নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। কিন্তু জয়পুরহাট স্টেডিয়ামটি আট মাস ধরে বন্ধ আছে। এ কারণে সেখানে অনুশীলন করতে পারছি না। কোনো দিন সুগারমিল মাঠ, আবার কোনো দিন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি মাঠে অনুশীলন করছি। এসব মাঠে পিচ, ওয়াশরুম বা ড্রেসিং রুম নেই। এ কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

কারাতে খেলোয়াড় নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমি স্টেডিয়ামটিতে নিয়মিত কারাতে অনুশীলন করতাম। বর্তমানে মাঠ সংস্কারকাজ চলমান থাকায় চিনিকল মাঠে এসে অনুশীলন করছি। গত ডিসেম্বরে মাঠে একটি টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্টেডিয়াম বন্ধ থাকার কারণে সেটি হয়নি। এ ছাড়া মাঠ না থাকায় নিয়মিত অনুশীলন করতে পারছি না। তাই দ্রুত স্টেডিয়ামটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

ক্লাব কর্মকর্তা কবির আকবর চৌধুরী তাজ বলেন, ‘স্টেডিয়ামটি উন্নয়নের নাম করে সাত-আট মাস ধরে তছনছ করে রাখা হয়েছে। কবে মাঠ বুঝে পাব সেটাও জানি না।’ তিনিও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানান।

প্রাক্তন ফুটবলার আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘মাঠ সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কাজ করতে গড়িমসি করছেন। যেই মাটি দিয়ে সংস্কার করার কথা তার চেয়ে অনেক নিম্নমানের মাটি এখানে ফেলা হয়েছিল। এ ধরনের মাটি ব্যবহার করলে মাঠের স্থায়িত্ব বেশিদিন হবে না।’

কারাতে কোচ শাহজাহান আলী দেওয়ান সাজু বলেন, ‘২০২৪ সালের জুন মাসে বলা হয় স্টেডিয়াম সংস্কার হবে, এ জন্য অন্য মাঠে অনুশীলন করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানায় তিন-চার মাসের মধ্যে মাঠ সংস্কার হবে। আত্মরক্ষার জন্য অনেক মেয়ে কারাতে শেখে। কিন্তু বর্তমান খোলা মাঠের কারণে ভালো পরিবেশ না থাকায় তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই অনুশীলনে আসে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যেসব নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হতো, তারাও আসছে না। বিভিন্ন জায়গায় টুর্নামেন্ট হচ্ছে, সেই প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। এ অবস্থা যদি বেশিদিন চলতে থাকে, তাহলে খেলার মান ভবিষ্যতে ভালো হবে না।’

ঠিকাদার টুটুল হোসেন বলেন, ‘কাজটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো মাটি না পাওয়ার কারণে কাজের একটু ধীরগতি হয়েছে। মাটির সমস্যা ছিল, সেটা ঠিক করে দিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযোগী হয়ে যাবে।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিপুল কুমার বলেন, ‘কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি আমাদের দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’