https://bangla-times.com/
ঢাকাশুক্রবার , ২৪ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

চাকরী রাজস্বের নামে ইফার আলমান দম্পতির প্রতারণা

বাংলা টাইমস্
নভেম্বর ২৪, ২০২৩ ৫:০৪ অপরাহ্ণ । ৮৫ জন
Link Copied!

আলমান হোসেন ও মরিয়াম ফাতেমা দম্পতি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদভিক্তিক শিশু ও গনশিক্ষা প্রকল্পের সহকারি পরিচালক। স্বামী-স্ত্রী মিলে সমানতালে দুইহাতে টাকা কামান। হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক।অবৈধভাবে অর্থ উর্পাযনে নিয়ম-নীতিরও তোয়াক্কা করেন না।

সরকারি বিধি মোতাবেক একজন কর্মকর্তা এক জায়গায় তিন বছরের বেশি থাকতে পারবে না এমন বিধান থাকলেও এই কর্মকর্তা দম্পত্তি ৯ বছর ধরে গনশিক্ষা প্রকল্পের আছেন।দীর্ঘ দিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার সুবাদে অনিয়ম দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন জলিল হোসাইন নামে এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের ৪৫০ জন ফিল্ড সুপারভাইজারদের প্রকল্প থেকে রাজস্ব করে দেওয়ার কথা বলে সহকারী পরিচালন আলমান হোসেন প্রতিজনের থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম চালিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই দম্পতি। প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে চলছেন রাজার হালে তিনি। আলমানের নিজ বলয়ের উপ-প্রকল্প পরিচালক(প্রশাসন,অতি:চা:) মুহাম্মদ রফিক-উল ইসলামসহ শক্তিশালী সিন্ডিকেট করে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছে।

আরও জানা গেছে, অনিয়ম দুর্নীতি করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের পাশাপাশি বর্তমানে আলমান হোসেন ও তার স্ত্রীর রয়েছে পীরেরবাগ ১ টি ফ্লাট, মুক্তি হাউজিং ২ টি ফ্লাট ও পশ্চিম আগারগাঁও জামিল রোডে আলীশান বাড়ী। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি এ বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, এক সময় তেমন কিছু না থাকা আলমানের দম্পতির ইফার প্রকল্পে যোগদানের পর যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান তারা। গত কয়েক বছরে হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। তার অঢেল সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনিয়মের রামরাজত্ব কায়েম করা আলমানের খুঁটির জোর কোথায়!

নানা অজুহাতে মসজিদভিক্তিক শিশু ও গনশিক্ষার কার্যাক্রমের সকল কর্মকতাদের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন আলমান হোসেন। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে বদলি হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ভুরিভুরি। উপজেলা অফিসগুলোতেও রয়েছে তার শক্ত সিন্ডিকেট। তবে কর্মকতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে নিজ অফিসে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। অফিসে কেউ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে ও তার কথামত না চললে বদলীসহ চাকুরিচ্যুতির হুমকি দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানান, অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে সহকারি পরিচালক দম্পত্তির মাসিক আয় ১৫/২০ লক্ষ টাকা। এ ঘুষের টাকা থেকে তিনি নিয়মিত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কয়কজনকে প্রতিমাসে মাসোহারা দেন। মাসোহারা ও বকশিশ দেওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সহকারি পরিচালক আলমান হোসেনের সাথে বলতে তার মোবাইল ফোন দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালযের সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার বলেন, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত হবে। তদন্তে সত্যতা পেলে সহকারি পরিচালক আলমান হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।