https://bangla-times.com/
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

ঋণ খেলাপি প্রার্থী খুঁজছে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ৫:৫৮ অপরাহ্ণ । ১১১ জন
Link Copied!

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কেউ ঋণ খেলাপি কি না, তা জানতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ খেলাপিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে তার সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ব্যক্তিদের নাম মিলিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, পত্রিকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ব্যাংকের উদ্যোগে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইন অনুযায়ী, ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ খেলাপি হলে ছাড় পাওয়া যাবে।

গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ অনুচ্ছেদ এর ১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে কোনো ব্যাংক হইতে গৃহীত কোনো ঋণ বা ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হইয়া থাকিলে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।’

একই অনুচ্ছেদের ১ ধারার উপ-ধারায় (এম) বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন যা কোনো ব্যাংক হইতে গৃহীত কোনো ঋণ বা ঋণের কোনো কিস্তি তাহার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে পরিশোধে খেলাপি হয়েছে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।’

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিলো মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় শেষদিন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঋণ খেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ত পরিচালক বা অংশীদার বা ব্যক্তি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তথ্য প্রমাণসহ প্রত্যেক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। যাচাই-বাছাইকালে তথ্য-প্রমাণসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক/বিশেষায়িত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে প্রার্থীদের (পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও ঠিকানাসহ) তালিকা সংগ্রহ করিবেন এবং প্রার্থীদের ঋণ খেলাপি সম্পর্কিত তথ্য প্রধান কার্যালয়ে জানাবেন। শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অথবা অন্য কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকার সহিত শাখাসমূহে হালনাগাদকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতার তালিকা মিলাইয়া দেখিবেন এবং তাহার শাখা ভুক্ত কোনো ঋণ খেলাপি প্রার্থী হইয়াছেন কিনা উহা নিশ্চিত হইবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে প্রার্থীদের (পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও ঠিকানাসহ) তালিকা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ে বিশেষভাবে জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/বিশেষায়িত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ঋণ খেলাপির তথ্য ও কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়। খেলাপি সংক্রান্ত সকল তথ্যর দায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে। তথ্য ভুল বা তথ্য উপস্থাপনে ব্যর্থতা হলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন থেকে বাছাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনেও রিটার্নিং অফিসার বা নিজ দপ্তরে উপস্থিত থেকে সহায়তা করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায়, খেলাপির হার ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।